রংপুরে সামরিক বাহিনীর নারী সদস্য সেজে যা করতেন প্রতারক নাজমুল
কখনো পুরুষ আবার কখনো নারী সেনাসদস্য পরিচয়ে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। নারীর বেশ ধারণ করে ও নারীকণ্ঠে কথা বলে ভিডিওকলে বিশ্বাস অর্জনের পর বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নিতেন। এমন অভিযোগে রংপুরে নাজমুল হাসান ওরফে জিম (২৪) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১৩।
বুধবার (১২ নভেম্বর) ভোরে র্যাব-১৩ সিপিএসসি রংপুর ক্যাম্পের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রংপুরের পীরগাছা উপজেলার অভিরাম গ্রামে অভিযান চালিয়ে প্রতারক চক্রের হোতা নাজমুল হাসান ওরফে জিমকে গ্রেপ্তার করে।তিনি ওই এলাকার মো. সাজ্জাদ হোসেন ওরফে জাহিদুল ইসলামের ছেলে। নাজমুল হাসান দীর্ঘদিন ধরে সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে অনলাইনে প্রতারণা চালিয়ে আসছিলেন।ৎ
র্যাব জানায়, নাজমুল সেনা ইউনিফর্ম পরে ভিডিওকলে নিজেকে সামরিক বাহিনীর সদস্য হিসেবে পরিচয় দিতেন। কখনো জমি কেনাবেচার বিনিয়োগের প্রস্তাব, কখনো বিশেষ সুযোগের প্রলোভন দেখিয়ে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতেন। তার এমন প্রতারণার ফাঁদে পড়েন কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর থানার সাওয়ালিয়া এলাকার বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম (৪৫)।
সেনাসদস্য পরিচয়ে নাজমুল ও তার সহযোগীরা রাজশাহীতে ১০ কাঠা জমির শেয়ার ক্রয়ের প্রলোভন দেখান। তারা জানান, দুটি শেয়ার তাঁদের নামে ক্রয় করা আছে, যার একটি এক নারী সেনাসদস্যের। সেই প্লট বিক্রির জন্য রফিকুলকে প্রস্তাব দেওয়া হয়। ইউনিফর্ম পরে ভিডিওকলে বিশ্বাস অর্জন করে তার কাছ থেকে ধাপে ধাপে ১৭ লাখ ২৬ হাজার টাকা নেয় প্রতারকেরা। পরে আরও ৫ লাখ টাকা দাবি করলে সন্দেহের সূত্র ধরে তিনি জানতে পারেন, একটি সংঘবদ্ধ প্রতারণা চক্রের খপ্পরে পড়েছেন। এ ঘটনায় কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর থানায় প্রতারণার মামলা করেন রফিকুল।
বাহিনীর ইউনিফর্ম-কমব্যাট ড্রেস, কমব্যাট গেঞ্জি, ফিল্ড ক্যাপ, টাওয়াল, ট্রাউজার, নৌবাহিনীর ইউনিফর্ম ৩ নম্বর সাদা ড্রেস ও নেভি জার্সি ক্যাপ উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন বাহিনীর বিভিন্ন কালারের ক্যানটিন গেঞ্জি ১৫টি এবং ভুয়া এনআইডি কার্ড ৯টি, বাটন মোবাইল পাঁচটি, স্মার্ট মোবাইল একটি, মেয়েদের পরচুলা একগোছা এবং মেকআপ সেট জব্দ করা হয়।এ বিষয়ে র্যাব-১৩ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী বলেন, গ্রেপ্তার নাজমুল দীর্ঘদিন ধরে সেনা ও নৌবাহিনীর সদস্য পরিচয়ে প্রতারণা করছিলেন। এ ধরনের প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে র্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
