Joy Jugantor | online newspaper

বদলগাছীতে সমন্বিত চাষাবাদে লাভবান কৃষক 

নওগাঁ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০০:২৭, ৫ মে ২০২৩

বদলগাছীতে সমন্বিত চাষাবাদে লাভবান কৃষক 

বছর বছর একটি ফসলের দিকে না ঝুঁকে চাষীদের মাঝে সমন্বিত চাষাবাদের আগ্রহ বাড়ছে। সমন্বিত চাষাবাদের ফলে চাষীরা সারা বছরই অর্থ আয় করতে পারছেন। বিভিন্ন ফল ও ফসলের আলাদা দাম পেয়ে লাভবান হচ্ছেন। নওগাঁয় এখন সারা বছরই বিভিন্ন ফল ফসলের দেখা মিলছে।

জেলার বদলগাছী উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নে খোজাগাড়ী গ্রামের কৃষক আব্দুর রউফ। মাধ্যমিক পাশের পর পড়াশুনার গণ্ডি চুকিয়ে কৃষিতে মনোনিবেশ করেন। বাবার সামান্য জমিতে শুরু করেন চাষাবাদ। যেখানে ধান, পাট ও শাক-সবজির আবাদ করতেন। তবে তিন বছর থেকে কৃষি অফিসের পরামর্শে চার বিঘা জমিতে সমন্বিত চাষাবাদ শুরু করেন। তার বাগানে তাইওয়ান সহ বিভিন্ন জাতের আম, পেয়ারা, বরই, কমলা ও মাল্টাসহ প্রায় ৮-১০ ধরণের ফলের গাছ আছে। ইতোমধ্যে বরই থেকে হারভেষ্ট করে লাভবান হয়েছেন। এ বছর নতুন ফসল চিয়া সিড আবাদ করেছেন।

উপজেলা বরেন্দ্র বহুমূর্খী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ থেকে উচ্চ ফলনশীল জাতের চিয়া সিড চাষে তাকে উদ্বৃদ্ধ করে। তারা নিজ থেকেই যোগাযোগ করে সার্বিক সহযোগীতা করেছে।

চাষী আব্দুর রউফ বলেন, গত তিন বছর আগে চার বিঘা জমিতে সমন্বিত প্রজেক্ট করেছি। যেখানে ফলের গাছ আছে। আগে ধান, পাট ও শাক-সবজির আবাদ করতাম। উপজেলা বরেন্দ্র বহুমূর্খী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আমার সাথে যোগাযোগ করে। চাষাবাদের জন্য ৫০০ গ্রাম বীজ দিয়েছিল। তা দিয়ে এক বিঘাতে আবাদ করা হয়। যা সরিষার মতোই একই সময়ে চাষাবাদ করা যায়। বিঘাতে খরচ প্রায় ১৫-২০ হাজার টাকা। বিঘাতে ফলন প্রায় ১০০ কেজির কথা বলা হয়েছিল। তবে ৮০ কেজি ফলন হলেও লাভ। তবে মাড়াই করার ধরনটা একটু ঝামেলা। রোদে শুকিয়ে হাত দিয়ে মাড়াই করতে হয়। মেশিনের সাহায্যে মাড়াই করা হলে বাতাসের সাথে উড়ে যাবে। বাজারে ১ হাজার টাকা কেজি। সে হিসেবে ৮০ কেজির দাম ৮০ হাজার টাকা। খরচ বাদ দিয়ে ৬০ হাজার টাকা থাকবে। এটা শরীরের জন্য উপকারি।যদি কোন ধরণের সমস্যা না হয় বিশেষ করে বাজারজাত তাহলে আগামী বছরে আরো বেশি পরিমাণ জমিতে চাষাবাদ করবে।

তিনি বলেন, সমন্বিত বাগান করার উদ্যোগ যেখানে সব ধরণের ফল ও ফসল থাকবে। পারিবারিক পুষ্টির চাহিদা মিটিয়ে বাজারজাত করা হবে। ভাল দাম পাওয়া সহ লাভবান হওয়া যাবে। আমাকে দেখে অনেকেই উদ্বুদ্ধ হবে।

খোজাগাড়ী গ্রামের কৃষক নিজামুল বলেন, আমাদের এলাকায় এটা একটা নতুন জাত। বাজারজাত না হওয়া পর্যন্ত বলা যাবে এটা কেমন লাভজনক। যদি বাজারজাত ভাল হয় আমরা চাষাবাদে আগ্রহী হবো। কারণ চাষ করলাম বাজারজাত করা যাচ্ছে না তাহলে তো আমাদের লোকসান হবে। এ বিষয়টি নিয়ে কৃষি অফিস কাজ করলে কৃষকদের জন্যও সুবিধা হবে।

একই গ্রামে কৃষক শাহজাহান আলী বলেন, প্রতিবেশী আব্দুর রউফ একটি সমন্বিত বাগান করেছে। সেখানে এবার চিয়া সিড এর আবাদ করে। আগে কখনো এ ফসলের নাম আমরা শুনিনি। শুনেছি যে সময় সরিষার চাষাবাদ হয়। একই ভাবে সরিষার আবাদের মতোই পরিচর্চা করতে হয়। তবে খরচটা তুলনামুলক বেশি। খরচ বেশি হলে সমস্যা নাই। যদি অন্যান্য ফসল থেকে দাম ভাল হয় এবং লাভবান হওয়া যায় তাহলে আমরা আগামীতে এ ফসল চাষাবাদে আগ্রহী হবো । এরপরেই আবার বোরো ধানে আবাদ হবে।

বদলগাছী উপজেলা কৃষি অফিসার সাবাব ফারহান বলেন, তিনি নিজ উদ্যোগে সমন্বিত বাগান গড়ে তুলেছেন। যেখানে অন্যান্য ফল ও ফসলের পাশাপাশি এবার ‘চিয়া সিড’ এর আবাদ করেছেন। চিয়া সিড একটি লাভজনক ফসল। একটি ফসল থেকে প্রতি বিঘাতে প্রায় ৫০ হাজার টাকার অধিক লাভ হয়। তার এ কার্যক্রম গুলো যদি অব্যাহত থাকে তিনি উপজেলার একজন আদর্শ কৃষক হিসেবে পরিচিত লাভ করবেন। যেসব কৃষক এ ফসলটি আবাদ করতে চাচ্ছেন তাদের কৃষি অফিস থেকে সার্বিক সহযোগীতা ও পরামর্শ প্রদান করা হবে।