Joy Jugantor | online newspaper

মরিচে ভাগ্য বদল, বগুড়ার চাঁনের মাসে আয় দেড় লাখ

মাসুম হোসেন

প্রকাশিত: ১৫:০৭, ১ সেপ্টেম্বর ২০২২

আপডেট: ১৫:৩৩, ১ সেপ্টেম্বর ২০২২

মরিচে ভাগ্য বদল, বগুড়ার চাঁনের মাসে আয় দেড় লাখ

ছবি- জয়যুগান্তর।

গ্রামের দশ শতক জমিই ছিল তার সম্বল। তাও তা পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া। স্বপ্ন ছিল তার বড় ব্যবসায়ী হওয়ার। তবে ছিল না তার মূলধন। অনেক কষ্টে সঞ্চয় করেন এক হাজার টাকা। সেই টাকা নিয়েই নেমে পড়েন ভাগ্য বদলের যুদ্ধে। শুরু হয় তার স্বপ্নের পথে চলা। কাঁধে ভাড় নিয়ে ঘুরেন হাট-বাজারে।

৪০ বছর আগে এমনই জীবন ছিল শুকনো মরিচ ব্যবসায়ী আব্দুর রশিদ চাঁনের। তবে এখন তার দিন বদলে গেছে। হাজার টাকা নিয়ে শুরু করা সেই ব্যবসায়ে এখন তার মাসিক আয় দেড় লাখ।

চাঁন বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা কাজীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তবে বর্তমানে তিনি আর গ্রামে বসবাস করেন না। বগুড়া সদরেও তার বাড়ি রয়েছে। সপরিবারে সেখানেই করছেন বসবাস।

ব্যবসায়ের শুরুতে কাঁধে ভাড় নিয়ে হাট-বাজার ঘুরে লাল বা শুকনো মরিচ বিক্রি করতেন চাঁন। ওই সময় মাসে তার আয় হত ১৫০০-২০০০ টাকা। তবে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে তার আয়। একই সঙ্গে ব্যবসার পরিধিও বাড়াতে শুরু করেন চাঁন।

১৯৮৬ সালেই তার ব্যবসায়ের চিত্র পাল্টে যায়। বগুড়ার শহরের রাজাবাজারে মরিচের আড়তে নেন দোকান ভাড়া। এরপরই জেলার বাহিরের ব্যবসায়ীরা তার কাছ থেকে শুকনো মরিচ কিনতে শুরু করেন।

বর্তমানে উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় যাচ্ছে তার শুকনো মরিচ। জেলাগুলো হলো- নওগাঁ, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, দিনাজপুর ও জয়পুরহাট। এছাড়াও দক্ষিণের জেলা কুমিল্লাতেও মরিচ সরবরাহ  করছেন তিনি। এখন মাসে দশ হাজার কেজি শুকনো মরিচ বিক্রি করেন। বগুড়াসহ গাইবান্ধা, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও থেকে মরিচ কেনেন চাঁন।

কৃষক ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে শুকনো মরিচ সংগ্রহ করেন তিনি। এখন তার মরিচের ব্যবসায়ে যোগ দিয়েছেন তার ছেলে মোত্তাকিন সাগর।

চাঁনের অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন

চাঁন যখন শুকনো মরিচ কেনাবেচা শুরু করেন, তখন তার পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া গ্রামের দশ শতক জমিই ছিল তার সম্বল। ওই সময় হাট-বাজার ঘুরে মরিচের ফেরি করলেও এখন তিনি আর্থিকভাবে স্বচ্ছল। ১৯৮৬ সালের আগ পর্যন্ত মাসে তার সর্বোচ্চ আয় ছিল ৩ হাজার টাকা। বগুড়া শহরের রাজাবাজারে ব্যবসায় শুরু করার পর থেকেই বাড়তে থাকে তার কেনাবেচা। মাসে এখন দশ হাজার কেজি লাল মরিচ বিক্রি হয় তার। সব খরচ বাদেও এখন আয় তার মাসে আয় দেড় লাখ টাকা।

গ্রামে এখন চাঁনের সেই দশ শতক জমি নেই! জমির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ বিঘাতে। গ্রামের সেই পুরাতন বাড়িঘরও করেছেন নতুন করে। বছর পনের আগে বগুড়া শহরের মালতিনগর এলাকাতে নির্মাণ করেন ইটের তৈরী একতলা বাড়ি। সেই বাড়িতেই সপরিবারে বসবাস করছেন তিনি।

চাঁনের ছেলে মোত্তাকিন সাগর জানান, তার বাবা জীবনের শুরুতে অনেক কষ্ট করেছেন। তবুও হাল ছাড়েননি। সংগ্রাম করেই নিজের ব্যবসাকে টিকিয়ে রেখে সংসার চালিয়েছেন। এখন তাদের পরিবার স্বচ্ছল।

আব্দুর রশিদ চাঁন বলেন, শুকনো মরিচের কেনাবেচা শুরুর পর থেকেই অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। কাঁধে ভাড় নিয়ে বিভিন্ন হাট বাজার ঘুরেছি। ওই সময় যা আয় হত, সেখানে থেকে অল্প অল্প করে সঞ্চয় করতাম। ধীরে ধীরে ব্যবসায় বড় করি। এখন পরিবার নিয়ে ভালো আছি। পরিবারের প্রতি দায়িত্ব পালন করতে পেরেছি। আমার আর কিছু চাওয়ার নেই।