Joy Jugantor | online newspaper

সারিয়াকান্দিতে বন্যার কারণে পাটের ক্ষতি ১০ কোটি টাকা

সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৮:৩৯, ১০ আগস্ট ২০২২

সারিয়াকান্দিতে বন্যার কারণে পাটের ক্ষতি ১০ কোটি টাকা

সারিয়াকান্দির চর শোনপচা গ্রামের চাষীরা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ জমি থেকে পাট কাটছেন।

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে সাম্প্রতিক বন্যায় পাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা সৃষ্ট বন্যায় যমুনা ও বাঙ্গালী নদীর চরাঞ্চলে পাটের জমিতে এ ক্ষতি হয়। টাকার অংকে ক্ষতির পরিমাণ ১০ কোটি ২০ লাখ টাকা। উপজেলা কৃষি দপ্তর এ সংবাদ নিশ্চিত করেছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর পাট চাষে লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিলো ৭ হাজার ১০ হেক্টর জমি। এর মধ্যে ৬২০ হেক্টর পাটের জমিতে প্রায় ৩৪ হাজার মণ পাটের আঁশ নষ্ট হয়। প্রতি মণ ৩ হাজার টাকা করে ধরলে বর্তমান বাজার অনুযায়ী এই পাটের মূল্য আসে ১০ কোটি ২০ লাখ টাকা।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, পাট চাষের শুরুতেই খরার কারণে পাট চাষে ধাক্কা খান চাষিরা। তবে চাষিরা বসে না থেকে সেচের পানিতে পাট বীজ বপন করেন জমিতে। এরপর কাংখিত বৃষ্টিপাত হলে পাটের আবাদে ঝুঁকে পড়েন চাষিরা। বাঙ্গালি ও যমুনা নদীর উর্বর চরের জমীতে ব্যাপক হারে পাট চাষ করায় লক্ষ্য মাত্রা অর্জন করেন চাষিরা। 

তবে পাট গাছ যখন ৬/৭ ফুট লম্বা হওয়ার পরপরই জমিতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে পাটের আবাদ আক্রান্ত হয়।  এ পরিমাণ জমিতে ৪/৫ ফুট পরিমাণ পানি জমে থাকে। প্রায় ৮/৯ দিন এই পানি জমে থাকায় পাট গাছের গোড়ার অংশে অসংখ্য পরিমাণ শিকড় গজায়। চাষিরা পাট গাছের গোড়ার অংশের শিকড়কে স্থানীয় চাষিরা দাঁড়ি বলে থাকেন। এ দাঁড়ি গজানোর কারণে পাটের সোনালী আঁশের মান বহু অংশে কমে যায়। এ ছাড়াও পানি জমে থাকার কারণে অপরিপক্ক পাটগাছ মরে যায়। 

সদর ইউনিয়নের বাটির চরের কৃষক মোখলেছ আলী বলেন, আমি এবার যমুনা চরের ১০ বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেছিলাম। পাট ফসল পানিতে আক্রান্ত হওয়ার কারনে এবার পাটের ফসলে আমি মার খেয়েছি। যেখানে প্রতি বিঘায় ৮/৯ মণ করে ফসল হওয়ার কথা সেখানে পেয়েছি মণ প্রতি মাত্র ৫/৬ করে। এবার পাটের আবাদে আমার অনেক ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার মো. আব্দুল হালিম বলেন, যমুনার চরাঞ্চলের চাষীরা পাট ফসলে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বিল এলাকার চাষীরা ভালো ফলন পেয়েছেন। এছাড়াও বাজারে এবার পাটের দামও ভালো। প্রতি মণ পাট বাজারে বেচাকেনা চলছে ২ হাজার ৬০০ থেকে শুরু করে ৩ হাজার টাকা মণ পর্যন্ত। তবে বন্যার কারনে চরাঞ্চলের কিছু চাষী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নষ্ট এই পাটের আর্থিক মূল্য প্রায় ১০ কোটি ২০ লাখ টাকার মতো। তবে বাজারে ভালো দাম থাকলে সবাই লাভবান হতে পারবেন বলে আশা করা যায়।