Joy Jugantor | online newspaper

ধুনটে কৃষিশ্রমিকের মজুরি বেড়েই চলেছে

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৮:৫৫, ১০ মে ২০২২

ধুনটে কৃষিশ্রমিকের মজুরি বেড়েই চলেছে

ফাইল ছবি ।

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় শ্রমিকের সংকট সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিদিনই বাড়ছে মজুরির পরিমান। এতে করে ভূট্টা ও ধানচাষীরা আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মৃখিত হচ্ছেন। কালবৈশাখী ঝড় ও অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে নিচু জমির ধান পড়ে গিয়ে পানির নিচে ডুবে যাওয়ায় সবদিক থেকেই বিপাকে কৃষকেরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ধুনট উপজেলায় ২ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে ভূট্টার চাষ হয়েছে। ধানের চাষ হয়েছে প্রায় ১৬ হাজার হেক্টর জমিতে। ভূট্টা এবং ধানের এবার বাম্পার ফলনও হয়েছিল। তবে কালবৈশাখী ঝড়ে সব এলোমেলো হয়ে গেছে। 

ঈদ-উল-ফিতরের আগে প্রায় ১ হাজার হেক্টর জমির ভূট্টা ঘরে তুলেছেন কৃষকেরা। তখন শ্রমিকের মজুরি ছিল জনপ্রতি ৩৫০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা। বর্তমানে শ্রমিকের মজুরি জনপ্রতি ১১০০ টাকা থেকে ১২০০টা পর্যন্ত। ভূট্টার দাম বেশী থাকায় অতিরিক্ত শ্রমিকের মজুরি দেওয়ার পরেও খুব বেশী ক্ষতির সম্মুখিত হচ্ছেন না কৃষকেরা।

এদিকে আগাম জাতের ধান কাটা শুরু হয়েছে ঈদের পর থেকে। এরমধ্যে কালবৈশাখী ঝড়ে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমির ধান পড়ে গেছে। এরমধ্যে অধিকাংশ জমির ধান এখনো কাটার সময় হয়নি। পড়ে যাওয়া ধানের ফলন অনেক কম হয়। এতে এসব জমিতে ধানের বাম্পার ফলন আর হচ্ছে না।

এদিকে উপজেলার প্রায় ৩ হাজার হেক্টর নিচু জমি রয়েছে। ঝড়ের কবলে পড়ায় প্রায় ৯০ভাগ ধান পড়ে গেছে। নিচু জমিগুলোর ধান পানির নিচে ডুবে গেছে। এতে ধান গাছে পচন ধরছে। ফলে তড়িঘড়ি করে ধান কাটতে বাধ্য হচ্ছেন চাষিরা। 

পুরো উপজেলায় একসাথে ধান কাটা শুরু হওয়ায় শ্রমিকের সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এ সুযোগে শ্রমিকেরা প্রতিদিনই বাড়িয়ে নিচ্ছেন মজুরি। ঈদের পরদিন জনপ্রতি শ্রমিকের মজুরি ছিল ৬০০ টাকা। এক সপ্তাহের ব্যবধানের মঙ্গলবার শ্রমিকের মজুরি দাড়িয়েছে জনপ্রতি ১২০০টাকা। 

ধান পড়ে যাওয়ায় ফলন অর্ধেকে নেমে এসেছে। অন্যদিকে শ্রমিকের মজুরি দিতে হচ্ছে দ্বিগুন। এতে করে ধানচাষিদের এবার লোকসান গুনতে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশী বেকায়দার পড়েছেন বর্গা চাষিরা। জমির মালিককে ধানের অংশ দেয়ার পর তাদের লোকসানের পরিমান হবে দ্বিগুন।

উপজেলার বেড়েরবাড়ি গ্রামের বর্গাচাষী আফজাল হোসেন জানান, তিনি ৪ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে ধান চাষ করেছেন। এরমধ্যে প্রায় ৩ বিঘা জমির আধাপাকা ধান ঝড়ে পড়ে যাওয়ায় তিনি ফলন পেয়েছেন বিঘা প্রতি ১৮ মন করে। অথচ ধানের যে বাম্পার ফলন হয়েছিল তাতে করে বিঘা প্রতি ২৫-২৬মন ধান পাওয়ার আশা ছিল।

বাশহাটা গ্রামের কৃষক রবিউল করিম জানান, ধান কেটে অর্ধেক ফলনও পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু কিচ্ছু করার নেই। ঝড়ে ধান পানিতে পড়ায় তাড়াতাড়ি করে কাটতে হচ্ছে। শ্রমিকের মজুরির পরিমান মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। লোকসানতো হবেই, কি পরিমান হবে সেটা ধান বিক্রির পর বোঝা যাবে।

এদিকে আবহাওয়া প্রতিকূল থাকায় ধানের দামও পাচ্ছেন না কৃষকেরা। মনপ্রতি ধানের দাম এখন ৮০০-৯০০টাকা। ধান শুকানোর অনিশ্চয়তার কারণে পাইকারেরা ধান কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।

ধান ব্যবসায়ী আপন হাসান জানান, এসময় কৃষকের ধান কাঁচা অবস্থায় বিক্রি করেন। সেইধান তারা নিয়ে চাতালে শুকিয়ে গুদামজাত করেন। কিন্তু খারাপ আবহাওয়ার কারণে ধান শুকানো যাচ্ছে না। সে কারণে তারা দাম কম দিয়েও ধান কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।

ধুনট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জানান, প্রাকৃতিক বিপর্যয় হলে তো কিছু করার থাকে না। তারপরও এ উপজেলা সার্বিকভাবে ভূট্টা এবং ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ভূট্টার দাম বেশী থাকায় কৃষকেরা লাভবান হয়েছেন। তবে শ্রমিকের মজুরি বেশী থাকায় এবং অতিরিক্ত ঝড় বৃষ্টির কারণে ধানচাষিরা একটু বেশীই ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছেন। 

Add