Joy Jugantor | online newspaper

আদমদীঘিতে এক মণ ধানের দামেও মিলছে না একজন শ্রমিক

তরিকুল ইসলাম জেন্টু

প্রকাশিত: ১৮:৪৭, ১০ মে ২০২২

আদমদীঘিতে এক মণ ধানের দামেও মিলছে না একজন শ্রমিক

এক মণ ধানের দামেও মিলছে না একজন শ্রমিক।

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার মাঠে মাঠে এখন পাকা ধান। তবে শ্রমিক সঙ্কটে ধান কাটতে পারছেন না অনেক কৃষক। পাইকারি বাজারে প্রতি মণ ভেজা ধান বিক্রি হচ্ছে ৮৫০-৯০০ টাকায়। যা গত বছরের থেকে প্রায় ২০০ টাকা কম। আর একজন শ্রমিককেই দৈনিক মজুরিও দিতে হচ্ছে ৮৫০ টাকার মতো। তবুও মিলছে না শ্রমিক। সব মিলিয়ে বোরো ধান নিয়ে বিপাকে রয়েছেন কৃষকরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি ইরি বোরো মৌসুমে উপজেলার একটি পৌরসভা ও ছয়টি ইউনিয়ন মিলে ১২ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এরমধ্যে জিরাশাইল, ব্রি ধান-২৮, ২৯ ও উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিড ধানসহ বেশ কয়েক জাতের ধান চাষ করেন কৃষকরা। তবে বৈশাখ মাসের প্রথম থেকেই উপজেলায় মাঝে মঝে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলা বৃষ্টিপাতের কারণে অনেক কৃষক তড়িঘড়ি করে ধান কেটে ঘরে তোলার চেষ্টা করছেন। 

আরো জানা গেঝে, ইতিমধ্যেই ঝড়-বৃষ্টিতে পাকা ও আধাপাকা ধান মাটিতে নুইয়ে পড়ে ধান গাছে পঁচন ও ধানে চারা গজাতে শুরু করেছে। ফলে অনেকেই ঝড় ও শিলাবৃষ্টির আতঙ্কে দিশেহারা হয়ে অতিরিক্ত মূল্য দিয়ে শ্রমিক নিয়ে আধাপাকা ধান কাটছেন। তারপরও কৃষি শ্রমিকের সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলার বৃহৎ জংশন স্টেশন সান্তাহারে কৃষিশ্রমিকরা ট্রেনযোগে এসে নামামাত্র কৃষকরা তাদের কাছে ভিড় জমাচ্ছেন। এদিকে  দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া থাকা সত্ত্বেও কৃষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে এবছরও আবাদ অনেকটাই ভালো হয়েছে।

উপজেলার সান্তাহার ইউনিয়নের কায়েতপাড়া গ্রামের শফির উদ্দীন, রায়হান হোসেন ও নাহিদ জানান, মজুরি হিসেবে এক মণ ধানের দাম দিয়েও মিলছে না একজন শ্রমিক। শ্রমিক মিললেও জনপ্রতি মজুরি দিতে হচ্ছে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা। সঙ্গে থাকছে আবার দুই বেলা খাবার। অন্যান্য খরচ তো আছেই। চলতি বোরো মৌসুমে ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টির কারণে শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। 

দমদমা গ্রামের গুলজার রহমান জানান, দুই বিঘা জমিতে তিনি ধান লাগিয়েছেন। শ্রমিক না পাওয়ায় নিজেরাই ধান কাটতে নেমে পড়েছেন।

উপজেলার নিমাইদীঘির আখতারুজ্জামান হিটলার নামের আরেক কৃষক জানান, কমবেশি সব এলাকায় বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। তাই শ্রমিকদের চাহিদা বেশি। ধান কাটার জন্য শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। তাই নীলফামারি জেলা থেকে কিছু শ্রমিক এনে তাদের সঙ্গে নিজেরাও ধান কাটছেন।

উপজেলার ছাতিয়ানগ্রামের ধান ব্যবসায়ী মিলন হোসেন জানান, ঘন ঘন বৃষ্টির কারণে ধানের দাম গত বছরের চেয়ে মণ প্রতি  (ভোজা) ১০০ থেকে ১৫০ টাকা কমে কেনা হচ্ছে। এ বছর কৃষকদের কাছ থেকে ভেজা প্রতি মণ ধান কেনা হয়েছে ৮৫০ থেকে ৯৫০ টাকা দরে। শুকনা ধান প্রতি মণ ১০০০ থেকে ১০৫০টাকা। যা গত বছর ছিল ১২০০ থেকে ১২৫০ টাকা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মিঠু চন্দ্র অধিকারি জানান, এবার উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বোরো ধান বেশি অর্জিত হয়েছে। তবে দাম কম, তারা কৃষকদের ধান ভালোভাবে শুকিয়ে সংরক্ষণ করার পরামর্শ দিচ্ছেন। যাতে সংরক্ষিত ধান কৃষকরা পরে বিক্রি করে ভালো দাম পান ও লাভবান হন। তাছাড়া শ্রমিক সংকট নিরসনের জন্য চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

Add