Joy Jugantor | online newspaper

নওগাঁয় বেড়েছে সরিষার আবাদ

আব্বাস আলী

প্রকাশিত: ১৭:৪৮, ১৩ জানুয়ারি ২০২২

আপডেট: ১৭:৪৯, ১৩ জানুয়ারি ২০২২

নওগাঁয় বেড়েছে সরিষার আবাদ

নওগাঁয় বেড়েছে সরিষার আবাদ।

সরিষা ফুলে হলুদ বরণে সেজেছে নওগাঁর বিভিন্ন উপজেলার ফসলের মাঠ। যতদূর চোখ যায় শুধু হলুদ আর হলুদ রঙে মাখামাখি। শীতের শিশির ভেজা সকালে সরিষার সবুজ গাছের হলুদ ফুলে সোনাঝরা রোদে ঝিকিমিক করছে। এ এক অপরুপ সৌন্দর্যে প্রকৃতিতে যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। সরিষা ফুলের হলুদ রঙের চোখ ধাঁধাঁলো বর্ণীল সমরোহ। 

গুনগুন শব্দে সরিষা ফুলের রেণু থেকে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত মৌমাছির দল। গত বছরের তুলনায় এ বছর দুই হাজার ৬৪৫ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ বেশি হয়েছে। এ বছর জেলা থেকে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার সরিষা উৎপাদনের সম্ভবনা রয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলার ১১টি উপজেলায় ৩২হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যেখানে ৩৪হাজার ৭৪৫ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। উপজেলা ভিত্তিক নওগাঁ সদর উপজেলায় ১ হাজার ৮২৫ হেক্টর, রানীনগরে ২ হাজার ৮০৫ হেক্টর, আত্রাইয়ে ১ হাজার ৭৩০ হেক্টর, বদলগাছীতে ৯৩৫ হেক্টর, মহাদেবপুরে ১ হাজার ৫০৫ হেক্টর, পত্নীতলায় ৫ হাজার ৩০ হেক্টর, ধামইরহাটে ১ হাজার ৯৬০ হেক্টর, সাপাহারে ৩ হাজার ৭৫০ হেক্টর, পোরশায় ৩ হাজার ৬৭০ হেক্টর, মান্দায় ৪ হাজার ৪১০ হেক্টর এবং নিয়ামতপুরে ৪ হাজার ৪৮০ হেক্টর জমি। জেলার পাঁচ হাজার কৃষকের মাঝে প্রত্যেককে এক কেজি উন্নত জাতের সরিষা বীজ, ২০ কেজি ডিএপি (ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট) ও ১০ কেজি এমওপি (মিউরেট অফ পটাশ) সার প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। 

জেলার উপজেলার মাঠে এখন সরিষার হলুদ ফুলের সমারোহ। কৃষি বিভাগ থেকে প্রনোদনা ও সরিষা তেলের দাম বেশি হওয়ায় চলতি বছরে কৃষকদের মাঝে সরিষা চাষে আগ্রহ বেড়েছে। নতুন সরিষা ২২০০ টাকা মণ এবং একটু শুকনা সরিষা ২৫০০-২৬০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। 

মান্দা উপজেলার ফতেপুর গ্রামের কৃষক আশরাফ আলী বলেন, বারি-১৪ ও ১৫ জাতের সরিষা পাকতে একটু বেশি সময় লাগে এবং ফলনও বেশি হয়। এ কারণে আগাম বোরো রোপন করতে দেশীয় জাতের (টরি) সরিষা লাগানো হয়। আগাম সরিষার দামও ভাল পাওয়া যায়। বর্তমানে ডিজেল এর দাম বেশি হওয়ায় আবাদ করতে বিঘা প্রতি ৩০০-৫০০ টাকা বেশি খরচ হচ্ছে।

কালীসফা গ্রামের কৃষক সমসের আলী বলেন, বাজারে সরিষা তেলের দাম বেশি। গত বছর দেড় হাজার থেকে দুই হাজার টাকা মণ বিক্রি করেছি। নতুন জাতের সরিষা উঠলে আশা করছি দাম বেশি পাবো। দাম বেশি হওয়ার সম্ভবনা থাকায় এ বছর তিন বিঘাতে সরিষার আবাদ করেছি। যা গত বছর ছিল ১০ কাঠা।

উপজেলার ভারশোঁ গ্রামের সরিষা চাষি আব্দুল খালেক বলেন, সরিষার জমি প্রস্তুত করতে বিঘাপ্রতি প্রায় আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা খরচ হয়। এক বিঘা জমি থেকে ৬মন সরিষা পেয়েছেন। নতুন সরিষা হাঁটে তুলে ২২০০ টাকা মণ দরে বিক্রি করেছেন। ওই জমিতে বোরো আবাদ করবেন। দুইটি চাষ ও সামান্য পরিমাণ সার দিয়ে চারা রোপন করবেন। সরিষা বিক্রির টাকা দিয়ে বোরোর আবাদ করবেন বলে জানান তিনি।

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শামসুল ওয়াদুদ বলেন, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় জমিতে জোর এসেছে। এ কারণে সরিষার ভালো আবাদ হয়েছে যা থেকে উৎপাদনের কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের নিশ্চিত সম্ভাবনা রয়েছে। আগের যে কোন সময় থেকে বাজারে সরিষার দামও বেশি। যেহেতু বাজারে সয়াবিন তেলের দাম বেশি রয়েছে। সেহেতু সরিষা দাম হবে না বলে মনে হচ্ছে। সরিষা চাষে কৃষকদের উদ্বৃদ্ধ করতে পাঁচ হাজার কৃষককে বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে।