Joy Jugantor | online newspaper

জয়পুরহাটে ব্রকলিতে স্বপ্ন বুনছেন কৃষকরা

জয়পুরহাট প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৫:৫০, ৫ জানুয়ারি ২০২২

আপডেট: ১৫:৫১, ৫ জানুয়ারি ২০২২

জয়পুরহাটে ব্রকলিতে স্বপ্ন বুনছেন কৃষকরা

জয়পুরহাটে ব্রকলিতে স্বপ্ন বুনছেন কৃষকরা

অত্যধিক পুষ্টি গুণাগুণ সমৃদ্ধ ব্রকলি চাষ করে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন সদর উপজেলার ভাদসা গুচ্ছ গ্রামের  প্রান্তিক কৃষকরা। 
 
সরেজমিন ভাদসা গুচ্ছগ্রাম এলাকা ঘুরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দরিদ্র কৃষক মোসলেম উদ্দিন ২০  শতাংশ জমিতে এবার ব্রকলি চাষ করেছেন । এ  ব্রকলি চাষে কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করছে স্থানীয় বে-সরকারি উন্নয়ন সংস্থা ’জাকস ফাউন্ডেশন’। ব্রকলি দেখতে ফুলকপির মতো।  তবে ব্রকলির পাতা ও  ফুল ফলের রং সবুজ।

চাষ পদ্ধতি বাধা বা ফুলকপির মতোই। ইতোমধ্যে কৃষক মোসলেম উদ্দিন বাজারে বিক্রি করতে  শুরু করেছেন। দাম ভালো পেয়ে খুশি বলে জানান। একেকটি ব্রকলি বর্তমানে বাজারে ২৫ থেকে ৩০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। প্রথম দিকে প্রতিপিস ৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে বলেও জানান তিনি। 

ব্রকলিতে সেলেনিয়াম নামক এক ধরনের উপদান থাকে যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।প্রচুর পরিমান ভিটামিন এ থাকায় ত্বকে ব্যাকটেরিয়ার আক্রান্ত হওয়ার আশংকা ্ হ্রাস পায়,   প্রচুর পরিমান ভিটামিন সি থাকায় ত্বক সুন্দর করে ও বয়সের ছাপ দূর করে, অক্সিজেনের মাত্রা সক্রিয় থাকায় দেহকে টক্সিন মুক্ত রাখে,  প্রচুর পরিমানে ভিটামিন এ থাকায় রাতকানা রোগ প্রতিরোধে বিষেশ ভ’মিকা রাখে,  ক্যালোরির পরিমান কম থাকায় ওজন নিয়ন্ত্রনে  রাখে,

ব্রকলিতে প্রচুর পরিমান বিটাক্যারোটিন ও সেলোনিয়াম থাকায় কান্সারের কোষ বৃদ্ধিতে বাধা সৃষ্টি করে,   ব্রকলিতে সালফোরাফেন নামক এক প্রকার উপদান থাকে যা গ্যাসট্রিক আলসার ও ক্যান্সার প্রতিরোধ করে,  অ্যার্লাজি পত্রিরোধক  মেগা ৩ ফ্যাটি এ্যাসিড থাকায় শরীরে প্রদাহ রোধ করতে সহায়তা করে,  ব্রকলিতে প্রচুর পরিমানে আঁশ বা ফাইবার থাকায় পরিপাকতন্ত্র ঠিক থাকে  কোষ্ঠ্যকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে,  ব্রকলিতে প্রচুর পরিমানে ক্যালসিয়াম ও র্র্র্র্ভিটামিন কে থাকায় হাড়ের গঠন শক্তিশালী হয়,  ব্রকলিতে ভিটামিন বি ৬ থাকায় হার্ট অ্যাটাক ও স্টোকের ঝুকি কমাতে সাহায্য করে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

বিশেষ করে চাইনিজ রেষ্টুরেন্টে এর প্রচলন ও চাহিদা বেশি। তুলনামূলক বাজারে  ফুল কপি বা বাধা কপির চেয়ে, ব্রকলি বেশি দামে বিক্রি হয়ে থাকে। ফলে ব্রকলি চাষ লাভজনক  হওয়ায় কৃষকদের মাঝে আগ্রহ বেশি। ব্রকলি চাষি  মোসলেম উদ্দিন  জানান, এবার ২০ শতাংশ জমিতে দুই হাজার ৫শ টি ব্রকলির চারা রোপণ করেছেন। ফুলকপির মতো চারা লাগানো থেকে ৬৫-৭০ দিনের মধ্যে ব্রকলি সংগ্রহ করা যায়। ফলে কৃষকরা অল্প সময়ে অধিক লাভবান হতে পারেন।

মোসলেম উদ্দিন জানান, ২০ শতাংশ জমিতে ব্রকলি চাষে চারা, লেবার, সেচসহ এখন পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১৭ হাজার টাকা। একেকটি ব্রকলি ২৫/৩০ টাকা পিস বিক্রি করলেও ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা বিক্রি করা সম্ভব বলে জানান তিনি।  বিষমুক্ত ভাবে এটি চাষ করা হচ্ছে। পোকা মাকড় দমনের জন্য কীটনাশক ব্যবহারের পরিবর্তে ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করা হয়েছে।

ব্রকলি চাষ লাভজনক হওয়ায় এবার ওই  এলাকার স্বপন কুমার, বিমল পাহান, আব্দুর রহমান, আমেদ আলি, সোয়াইব, নোমানসহ অনেক কৃষক বর্তমানে ব্রকলি চাষ করেছেন। স্থানিয় বে-সরকারি উন্নয়ন সংস্থা ’জাকস ফাউন্ডেশন”  ব্রকলি চাষে বীজ সরবরাহসহ আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতা প্রদান করছে। বেলে দো’আশ মাটিতে ব্রকলির ফলন ভালো হয় এবং অত্যধিক পুষ্টি  গুণাগুণ সমৃদ্ধ ব্রকলি চাষে কৃষকদের আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানান, সহকারী পরিচালক (কৃষি) ওবাইদুল ইসলাম। জাকস ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মো: নূরুল আমিন বলেন, পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের  পিকেএসএফ কৃষি ইউনিটের অধীন বিভিন্ন ফসল চাষে কৃষকদের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।