Joy Jugantor | online newspaper

হাইব্রিড ধানের চাহিদা দুই বছরে বেড়েছে দ্বিগুণ

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৮:১২, ১৪ নভেম্বর ২০২১

হাইব্রিড ধানের চাহিদা দুই বছরে বেড়েছে দ্বিগুণ

সংগৃহীত ছবি

কয়েক বছরের ব্যবধানে হাইব্রিড ধানের চাহিদা কিছুটা কমে গেলেও বছর দুয়েকে তা বেড়েছে দ্বিগুণ হারে। সম্প্রতি দেশের কয়েকটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, দিনে দিনে কমছে এই ধানের চাহিদা। তবে, সরেজমিন অনুসন্ধানে মিলেছে এর বিপরীত চিত্র। 

প্রায় দুই যুগ ধরে দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় সাধারণ জাতের ধানের পাশাপাশি ভূমিকা রাখছে হাইব্রিড ধান।
 
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, বিগত কয়েক বছরে মোট আবাদি জমির শতকরা ৭ ভাগে হাইব্রিড ধান চাষ হলেও মাঝে তা কমে যায় কয়েক ভাগ। কিন্তু বছর দুয়েকের ব্যবধানে তা বৃদ্ধি পাচ্ছে দ্বিগুণ হারে। সাথে উৎপাদনও বেড়ে হয় দ্বিগুণ।
 
সম্প্রতি দেশের কয়েকটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, দিনে দিনে কমছে এই ধানের চাহিদা। তবে, সরেজমিন অনুসন্ধানে মিলেছে, এর বিপরীত চিত্র। প্রান্তিক কৃষক, পরিবেশক, বীজের বিক্রয়কেন্দ্র কর্মকর্তা কর্মচারীরা বলছেন, দিনে দিনে বাড়ছে হাইব্রিড ধানের আবাদ।

তারা বলেন, অন্যান্য ধান যদি হয় ২০ মণ, হাইব্রিড ধান হয় ৩৫ মণ। মানুষের সাশ্রয়ও কম লাগে, ফলনও বেশি পায়। আবার কেউ কেউ বলেন, বিঘা প্রতি আমরা ৩০-৩৫ মণ করে ধান পেয়ে থাকি। কৃষকের সাড়াও রয়েছে বেশ ভালো। 

বীজ উৎপাদন কেন্দ্রের মালিকরা বলছেন, হাইব্রিড ধান জাতের তারতম্যের কারণে কিছুটা ব্যাহত হতে পারে উৎপাদন। তবে সময়ের ব্যবধানে ধীরে ধীরে বাড়ছে এর চাহিদা।

সুপ্রীম সীড কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাসুম বলেন, এ বছর হঠাৎ করে ৩০-৪০ লাখ টন চাল আমদানি হলো অনেক বছর পর। এর কারণটা কী? কারণটা হলো আমাদের উৎপাদন কম হয়েছে এবং এই উৎপাদনের যে ঘাটতি আছে সেটা আসলে হাইব্রিডেই মিটাবে। 

ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এস এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, হাইব্রিড ধানকে বাদ দিয়ে খাদ্যের স্বয়ং সম্পূর্ণতা আশা করা অসম্ভব ব্যাপার। এটাকে রাখতে হবে। যদি কোন বিশেষ জাত কৃষকের কাছে অজনপ্রিয় হয় সেটা ভিন্ন কথা। কিন্তু সার্বিকভাবে হাইব্রিড ধানের বীজ, সবজির বীজ এবং অন্যান্য হাইব্রিড এটা আমাদের দেশে প্রয়োজন আছে।
 
এদিকে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের শীর্ষ কর্তার বলছেন, উৎপাদন বাড়াতে মাঠ পর্যায়ে হাইব্রিডের পাশাপাশি নতুন ইনব্রিড জাতের ধানের আবাদকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবীর বলেন, বীজের চাহিদা কমে গেছে বলে আমাদের প্রতীয়মান হয়নি। কারণ সরকার এখনও হাইব্রিডের প্রণোদনা দিচ্ছে। সেক্ষেত্রে আমাদের কিন্তু ইমব্রিড অনেক ভালো জাত ইতোমধ্যে আসছে। যেগুলো হাইব্রিডকে বিড করতে পারে। হাইব্রিডের চেয়ে ফলন বেশি। 

দেশের মোট আবাদি জমির ৭৫ শতাংশই ব্যবহার করা হয় ধান চাষে। যার প্রায় ১২ শতাংশে আবাদ হয় হাইব্রিড ধান।