Joy Jugantor | online newspaper

পানিফল চাষে শিবগঞ্জের মোজাম্মেলের সফলতার গল্প 

রবিউল ইসলাম রবি

প্রকাশিত: ২১:৩৬, ২৮ অক্টোবর ২০২১

পানিফল চাষে শিবগঞ্জের মোজাম্মেলের সফলতার গল্প 

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার ভাগকোলা গ্রাম

বর্গার নেয়ার সুযোগ থাকলেও অর্থের অভাবে অন্য ফসল চাষ করার সামর্থ্য ছিল না। এ জন্য অল্প কিছু পতিত জমি বর্গা নিয়ে পানিফল চাষ শুরু করেন। এভাবে কেটে গেছে প্রায় ৩০ বছর। এতদিনের সাধনায় এখন পানিফল চাষে পরিবারে এসেছে স্বচ্ছলতা। 

এ কথাগুলো জানিয়েছেন বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা ইউনিয়নের ভাগকোলা গ্রামের ভূমিহীন কৃষক মোজাম্মেল হক (৬৫)। বসতভিটা ছাড়া তার কিছু নেই। তবে বাড়ির ধারে রয়েছে বেলতলা বিল। করতোয়া নদীর তীরবর্তী এ বিলেই দীর্ঘদিন ধরে পানিফলের আবাদ করছেন তিনি।

গত বুধবার দুপুরে মোজাম্মেল হক বলেন, ৩০ বছর ধরে পানিফলের চাষ করি। আগে অল্প জমিতে পানিফলের আবাদ করতাম। গত ৪ বছর থেকে ৫ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে আবাদ করছি। 

মোজাম্মেলের পরিবারের সাত জনের সংসার চলে এ পানিফল চাষ করেই। শারীরিক অসুস্থতার কারণে আগের মতো পরিশ্রম করতে পারেন না তিনি। তবে তার নাতি সোহাগ (২২) এখন কৃষিকাজে সাহায্য করছেন। গত চার বছর ধরে পানিফল চাষ করে গড়ে প্রায় লাখ খানেক টাকা আয় করছেন তিনি।

মোজাম্মেল হক জানান, পানিফল চাষে খরচ তুলনামূল কম। কিন্তু পরিশ্রম বেশি। কারন এ ফল পানিতে চাষ করতে হয়। জলাবদ্ধ জমি ছাড়া পানিফল চাষ করা যায় না। এ বছর ৫ বিঘা জমিতে সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। প্রতি বিঘাতে ২০ থেকে ২২ মন পানিফল উৎপাদন হয় বলে জানান তিনি। 

এখন পর্যন্ত ৪০ হাজার টাকার পানিফল বিক্রি করেছেন। সব মিলিয়ে এবার সোয়া লাখ টাকার পানিফল বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন মোজাম্মেল। 

উপজেলা কৃষি অফিস ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শিবগঞ্জ এলাকায় খুব বেশি মানুষ পানিফলের চাষ করেন না। মোজাম্মেল হক ছাড়া আর দুই থেকে চারজন এই ফসল করেন। এ বছর উপজেলায় ৩ একর জমিতে পানিফলের চাষ হচ্ছে।

শিবগঞ্জ উপজেলা থেকে গাইবান্ধা কয়েকজন পাইকারি ব্যবসায়ী পানিফল প্রতিবছর কিনে নিয়ে যান। তারা জানান, পানিফল চাষের মৌসুম আসার আগেই শিবগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকার অর্ধ শতাধিক চাষিকে আমরা বিনিয়োগ করেছি। ফলন আসার পর সেই চাষিদের কাছে থেকেই ফল সংগ্রহ করা হয়।

কৃষক মোজাম্মেল দৈনিক জয়যুগান্তরকে আরও বলেন, আমি ৩০ বছর ধরেই জমি বর্গা নিয়ে পানিফল চাষ করে আসছি। কিন্তু সরকার বা কৃষি অধিদপ্তর থেকে সুযোগ সুবিধা পেলে আরও বৃহৎ পরিসরে পানিফল চাষ করা সম্ভব হবে।

শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল মুজাহিদ সরকার বলেন, অল্প খরচে অধিক লাভ হওয়ায় পানিফল চাষ বেড়েছে। তাছাড়া জলাবদ্ধ জমিতেই এই ফলের চাষ হয় ভোগান্তিও কম আবার ফলনও বেশি। ফল চাষের জমি হিসেবে ব্যবহার করা হয় ডোবা, বদ্ধ জলাশয় বা মাছের ঘেরের সুবিধাজনক স্থান। এ ছাড়া সামান্য লবণাক্ত ও মিষ্টি পানিতে পানিফল চাষ করা যায়।

তিনি জানান, হেক্টর প্রতি পানিফলের উৎপাদন প্রায় ৩০ মেট্রিক টন পাওয়া যায়। উৎপাদিত ফল বিক্রি করে প্রতি বিঘায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা আয় হয়ে থাকে। 

সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে এই কৃষি কর্মকর্তা বলেন, কোন চাষি আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে তাকে চারা বিতরণে যথাসাধ্য সহায়তা করা হবে।

উল্লেখ্য, পানিফল মূলত একটি বর্ষজীবী জলজ উদ্ভিদ। অনেকে একে শিংড়া নামে অবিহিত করা হয়। এর বৈজ্ঞানিক নাম ঞৎধঢ়ধ হধঃধহং এটি ঞৎধঢ়ধপবধব। এটি এটি ৫ মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। পানির নিচে মাটিতে এর শিকড় থাকে এবং পানির উপর পাতা গুলি ভাসতে থাকে। ফলগুলিতে শিং এর মতে কাটা থাকে বলে এর শিংড়া নামকরণ হয়েছে বলে মনে করা হয়। পানিফল কাঁচা, সিদ্ধ দুভাবেই খাওয়া যায়।