Joy Jugantor | online newspaper

কচু চাষে লাভ বেশি, বদলগাছীতে বাড়ছে আগ্রহ 

বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধি 

প্রকাশিত: ১৮:৫৮, ১১ জুলাই ২০২১

কচু চাষে লাভ বেশি, বদলগাছীতে বাড়ছে আগ্রহ 

‘কচু’, অনেকেই তিরস্কার করে এই শব্দটি ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু লাভজনক সবজি হিসেবে কচু চাষেই আগ্রহী হয়ে উঠছেন নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার কৃষকরা। খরচ কম কিন্তু লাভ অনেক বেশি। রোগ বালাই নাই বললেই চলে। তাই কীটনাশক ব্যবহার করতে হয় না। বিষমুক্ত সবজি হিসেবে দিন দিন কচুর চাহিদাও বাড়ছে। 

বদলগাছী উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, এ মৌসুমে ২০০ হেক্টর জমিতে কচু চাষ হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৫০ হেক্টর বেশি। মুখি কচু, লতি কচু, ওল কচু ও পানি কচু এ উপজেলায় বেশি চাষ হয়। কন্দাল ফসল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। এছাড়াও প্রদর্শনীর মাধ্যমে  উপজেলার কৃষকদের কচু চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ভালো মানের বীজ ও সার সরবরাহ করা হচ্ছে। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হাসান আলী বলেন, ধানের চেয়ে কচু চাষ অনেক লাভজনক। রোগ বালাই কম। তাই কীটনাশক কম লাগে। কচু চাষে ঝুঁকিও কম। কচুর পুষ্টিগুণ অনেক বেশি। কচুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘এ’ ও আয়রন থাকে। 

কৃষি অফিস জানায়, এক বিঘা জমিতে কৃষকের কচু চাষ করতে খরচ হয় ১৬ থেকে ১৮ হাজার টাকা। নিয়মিত পরিচর্চা করলে আয় হবে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার টাকা। কচু রোপণের দুই থেকে আড়াই মাস পর থেকেই আয় শুরু হয়। ৪-৫ মাস নিয়মিত আয় করা সম্ভব। কচুর লতি ২-৩ মাস পর থেকেই বিক্রির উপযোগী হয়। প্রতি কেজি কচুর লতি ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রয় হয়। এক বিঘা জমি থেকে সপ্তাহে আড়াই থেকে তিন মণ লতি বিক্রয় করা সম্ভব। এক বিঘাতে মুখি কচুর ফলন হয় ৯০ থেকে ১০০ মণ। আর পানি কচুর ফলন হয় তিন থেকে চার হাজার টি। 

উপজেলার দক্ষিণ মাধবপাড়া গ্রামের কৃষক গোবিন্দ জানান, তিনি ১৫ কাঠা জমিতে কচু চাষ করেছেন। রোপণের আড়াই মাস পর থেকে কচুর লতি হাটে বিক্রয় করা শুরু করেছেন। খরচ হবে ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা। লতি এবং কচু বিক্রয় করে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা আয় করার আশা তার। 

চকবনমালী গ্রামের কৃষক কৃষ্ণ জানান, তিনি আগে ঢ়েড়স আবাদ করতেন। কিন্তু কচুতে লাভ অনেক বেশি। তাই তিনি তার এক বিঘা জমিতে কচু চাষ করেছেন। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হাসান আলী বলেন, বেলে দোআঁশ মাটিতে কচু চাষ খুব ভালো হয়। এ উপজেলার মাটি কচু চাষের জন্য উপযোগী। কচুর লতির চাহিদা দেশে ও বিদেশে ব্যাপক হারে বাড়ছে। তাই নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কৃষকদের কচু চাষে উৎসাহিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি কচুর একটি পাইকারী বাজার তৈরির চেষ্টা চলছে। এতে কৃষক তাদের উৎপাদিত কচু জমি থেকেই ভালো দামে বিক্রয় করতে পারে।