Joy Jugantor | online newspaper

তীব্র খরায় দুশ্চিন্তায় নওগাঁর আম চাষিরা

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৪:১১, ২৮ এপ্রিল ২০২১

আপডেট: ১৪:১২, ২৮ এপ্রিল ২০২১

তীব্র খরায় দুশ্চিন্তায় নওগাঁর আম চাষিরা

ছবি সংগৃহীত

আমের রাজধানী উত্তরের জেলা নওগাঁ। গাছে গাছে দুলছে চাষীদের স্বপ্ন। কিন্তু প্রকৃতিতে বইছে তীব্র খরা। তীব্র দাবদাহে ছোট হয়ে আসছে আম। খরায় আমের বোঁটা শুকয়ে ঝরে পড়ছে। রোগবালাই দেখা দিয়েছে। প্রতিষেধক দেয়া হলেও আবারও পোকার উপদ্রব দেখা যাচ্ছে। সুফল না পাওয়ায় চাষির কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ। 

গত বছর আমের ভাল মূল্য পেয়েছিলেন তারা। এবারো ভাল দাম পাওয়ার আশা করছেন। তবে প্রকৃতির এমন অবস্থা চলতে থাকলে এবার আম চাষিরা লোকসানে পড়বেন। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, জেলায় এ বছর ২৫ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে আমের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরমধ্যে পোরশা উপজেলায় ১০ হাজার ৫৫০ হেক্টর, সাপাহারে ৮ হাজার ৫২৫ হেক্টর, পত্নীতলায় ৩ হাজার ১৫ হেক্টর এবং নিয়ামতপুরে ১ হাজার ১৩০ হেক্টর।

এছাড়া অন্যান্য উপজেলায় স্বল্প পরিমাণ আমের উৎপাদন হয়ে থাকে। আমের মধ্যে জাত ভেদে জেলায় মোট আমরূপালি ১০ হাজার ৬৩০ হেক্টর, গোপালভোগ ৪ হাজার ৮০ হেক্টর, খিরসাপাত ৩ হাজার ৮৯০ হেক্টর, ল্যাংড়া ৩ হাজার ৭৫ হেক্টর এবং নাখফজলি ১ হাজার ৫৪৫ হেক্টর। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন। যেখানে গড় ফলন হেক্টর প্রতি ১২ মেট্রিক টন নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর ২৪ হাজার ৭৭৫ হেক্টর জমিতে আমের উৎপাদন হয়েছিল।

জেলার বরেন্দ্র এলাকা হিসেবে পরিচিত সাপাহার, পোরশা, নিয়ামতপুর ও পত্নীতলা উপজেলার আংশিক এলাকায় পানি স্বল্পতার কারণে বছরের একটিমাত্র ফসল আমনের ওপর নির্ভর করতে হতো। কিন্তু গত কয়েক বছর থেকে ধানের আবাদ ছেড়ে আম চাষের দিকে ঝুঁকেছেন চাষিরা। আম চাষে লাভবান হওয়ায় পোরশা ও সাপাহারে উপজেলায় প্রায় তিনশতাধিক মৌসুমি আমের আড়ত গড়ে ওঠে। যেখান থেকে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় আম সরবরাহ হয়ে থাকে। যেখানে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার মতো বেঁচাকেনা হয়ে থাকে।

গত বছর কৃষকরা আমের ন্যায্যমূল্য পেয়েছিল। গোপালভোগ ও হিমসাগর আমের দাম ছিল ১ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা, ল্যাংড়া ২ হাজার ৪ হাজার টাকা, আমরূপালি ও বারি ৪ জাতে ২ হাজার ২০০ থেকে ৫ হাজার ৫০০ টাকা এবং ফজলি ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা মণ।

চাষিরা বলছেন, অতিরিক্ত খরায় আমে বোঁটা শুকিয়ে আম ঝরে পড়ছে। আমে হপার ও মাকর পোকার আক্রমণ খুব বেশি। পোকামাকড়ের আক্রমণে আম কালো হয়ে যাচ্ছে। প্রতিষেধক ব্যবহার করা হলেও কিছুদিন আবারও পোকার উপদ্রব দেখা দিচ্ছে। এবার অনাবৃষ্টির কারণে আমের ফলন কম হবে। একমাত্র বৃষ্টি হলে আম রক্ষা পেতে পারে বলে ধারণা করছেন চাষীরা।

পোরশা উপজেলার সরাইগাছী এলাকার চাষি আনিছুর রহমান জানান, তিনি এ বছর প্রায় ১৫০ বিঘা জমি ইজারা নিয়েছেন। সবগুলোই আমরূপালি আম। প্রতি বিঘা জমির ইজারা মূল্য পড়েছে গড়ে ১৫ হাজার টাকা। এছাড়া শ্রমিক, সার ও কীটনাশকসহ এখন পর্যন্ত আনুষঙ্গিক খরচ পড়েছে বিঘা প্রতি ১০ হাজার টাকা। শুরুতে গাছে আমের গুটি ভাল ছিল। কিন্তু প্রচণ্ড খরায় আম বাড়ছে না এবং ঝরে পড়ছে। কিছুটা রোগ দেখা দিয়েছিল। কিছুদিন আগে বৃষ্টি হওয়ায় একটু উপকার হয়েছে। তবে গত বছরের তুলনায় এবার লাভের পরিমাণ কম হবে।

সাপাহার উপজেলার তিলনা ইউপির পদলপাড়া গ্রামের উদ্যোক্তা এমএ নোমান জানান, তার ৩ বিঘা জমিতে ফজলি, ল্যাংড়া, নাখ ফজলি ও আমরূপালি জাতের আম গাছ আছে। গাছের বয়স চার বছর হলেও তিন বছর থেকেই আম ধরা শুরু হয়েছে। এ বছর তীব্র দাবদাহে আম অনেক ঝরে পড়েছে। এছাড়া রোগের প্রার্দুভাব দেখা দিয়েছে। তবে বৃষ্টি হলে আমের জন্য খুবই উপকার হবে। তিনি সারাদেশে ফরমালিনমুক্ত ফ্রেশ আম কুরিয়ারের মাধ্যমে বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছেন।

পোরশা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহফুজ আলম বলেন, প্রথম দিকে আমে ভাল গুটি এসেছিল। তীব্র দাবদাহে আমের গুটি ঝরে পড়ার প্রবণতা দেখা দিয়েছে। তবে গত কয়েকদিন আগে প্রায় ১৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। মাটিতে রস এসেছে। এ বৃষ্টি আমের ভাল উপকারে এসেছে। আর রোগ বালাইয়ের পরিমাণ খুবই কম।

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. সামশুল ওয়াদুদ বলেন, কৃষি অফিস থেকে চাষিদের কীটনাশক প্রয়োগের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এতে করে আমে দাগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না। এছাড়া যদি বৃষ্টি হয় তাহলে আম ঝরে পড়ার প্রবণতা থাকবে না। এতে আমের ভাল ফলনের আশা করছি। কৃষকরা লাভবান হতে পারবেন। এছাড়া আগামি এক মাসের মধ্যে বাজারে আম আসা শুরু করবে।