Joy Jugantor | online newspaper

বগুড়ায় মরিচের ফলন ও দামও বেশি, কৃষক খুশি 

মামুনুর রশিদ মামুন

প্রকাশিত: ১৪:১৬, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২১

আপডেট: ১৪:১৯, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২১

বগুড়ায় মরিচের ফলন ও দামও বেশি, কৃষক খুশি 

খেত থেকে মরিচ সংগ্রহ করছেন নারী কৃষি শ্রমিক। ছবি-মামুনুর রশীদ মামুন

বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চলের কৃষকেরা চারদফায় বন্যায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ্য হয়েছেন। তবে আবহাওয়া অনূকুলে থাকায় মরিচের বাম্পার ফলন হয়েছে। এবার লক্ষ্যমাত্রাকেও ছাড়িয়ে গেছে মরিচের ফলন। এমনকি জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্যান্য জেলাতেও রপ্তানি হচ্ছে বগুড়ার মরিচ। 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এবার মরিচের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৭ হাজার ৬১৫ হেক্টর জমি। এখন পর্যন্ত অর্জিত হয়েছে ৬ হাজার ৯৬৫ হেক্টর। এরমধ্যে শুধু সারিয়াকান্দি উপজেলায়তেই ৩ হাজার ৭০৫ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ হয়েছে।

সারিয়াকান্দিতে ৪ হাজার হেক্টর জমিতে মরিচ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। এরমধ্যে ১ হাজার ৭৩৫ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড ও ১ হাজার ৯৭০ হেক্টর জমিতে উফশি জাতের মরিচের চাষ হয়েছে।

সারিয়াকান্দি উপজেলার চরের মরিচের সুনাম রয়েছে দেশজুড়ে।  সম্প্রতি উপজেলায় গিয়ে কথা হয় মরিচ চাষীদের সঙ্গে। 

চাষীরা বলছেন, এক বিঘাজমিতে মরিচ চাষে খরচ হয় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। আর ১ বিঘা জমি থেকে ৩০ থেকে ৩৫ মণ কাঁচামরিচ পাওয়া যায়। বর্তমানে বাজারে কাঁচা মরিচের মণ ৮০০ টাকা।  ১ বিঘা জমি থেকে ৮ থেকে ১০ মণ পর্যন্ত শুকনো মরিচ পাওয়া যায়। বাজারে ১ মণ শুকনো মরিচ ৬ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মরিচ চাষী আব্দুর রাজ্জাক ও আব্দুল ওহাব শেখ জানান, মরিচের চারা রোপণের ৫০ দিন পর ফুল ও ফল আসতে শুরু করে। চাষের জন্য জমিতে দুইবার পানি দিতে হয়। ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ থেকে মরিচ রক্ষা করতে প্রতি সপ্তাহে একবার জমিতে কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়। গাছ থেকে একাধিকবার মরিচ সংগ্রহ করা যায়।

উপজেলার বিপ্লব ও জাহানুর বেগমসহ অন্তত ২০জন মরিচ চাষী বলছেন, এবারের মরিচের ফলন ভালো হয়েছে, দামও পাওয়া যাবে। মরিচ চাষে তারা অনেক খুশি এবার।
সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে,  উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে ৭ ইউনিয়নই চরাঞ্চল। এখানে অর্ধেকের বেশি জমিতে মরিচের চাষ করা হয়। এলাকার কৃষকেরা হাইব্রীড জাতের মরিচের দিকে ঝুঁকে পড়ছে বেশি। এতে পুরো বছর মরিচ পাওয়া যায়। মাসে দুইবার জমি থেকে মরিচ উঠানো হয়। ঢাকা থেকে বিভিন্ন কোম্পানীর লোকেরা এসে মরিচ কিনে নিয়ে যান। চর এলাকায় নারী কৃষি শ্রমিকের সংখ্যা বেশি।

চরাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে, নারী-পুরুষরা মিলে মরিচের বাগান পরিচর্যা করছেন। গাছ থেকে মরিচ সংগ্রহ করতে নারীদেরই ভূমিকা বেশি। মরিচ সংগ্রহ শেষে বাছাই ও রোদে শুকানোর কাজে নারীরাই এগিয়ে। 

জানতে চাইলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বগুড়ার অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) শাহাদুজ্জামান বলেন, বগুড়া জেলার মধ্যে সারিয়াকান্দি, ধুনট ও সোনাতলা উপজেলাতেই মরিচের চাষ বেশি হয়। এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি মরিচ উৎপাদন হবে।