শৈত্য প্রবাহ ও কুয়াশায় বোরো বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত
পাঁচবিবিতে শৈত্য প্রবাহ এবং ঘন কুয়াশার কারণে বোরো ধানের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তীব্র শীত ও কুয়াশার প্রভাবে বীজতলার চারা হলুদ ও সাদা রঙ ধারণ করে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।বীজতলা বাঁচাতে অনেক কৃষক পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখার চেষ্টা করছেন। তারপরও তেমন কোনো লাভ না হওয়ায় কৃষকরা তাদের ইরি-বোরো বীজতলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, গত আমন মৌসুমে ধান কাটার আগমুহূর্তে বৈরী আবহাওয়ার কারণে ধানের ক্ষতি হওয়ায় কৃষকেরা অনেক আশা নিয়ে চলতি বোরো মৌসুমে ধান রোপণের জন্য বীজতলা তৈরি করেছিলেন। কিন্তু গত কয়েক দিন ধরে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে বীজতলার গজানো চারাগুলো হলুদ ও সাদা বর্ণ ধারণ করে পাতা কুঁকড়ে মারা যাচ্ছে।কৃষকরা বিভিন্নভাবে চারা রক্ষার চেষ্টা করলেও তা সফল হচ্ছে না বলে জানান তারা। এদিকে চলতি মাসে আরও শৈত্য প্রবাহের আশঙ্কার কথা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় কৃষকেরা হতাশায় ভুগছেন।
উপজেলার আওলাই ইউনিয়নের পিয়ার গ্রামে কৃষক হাফিজুর রহমান বলেন, “ঠান্ডা ও কুয়াশায় বীজতলা হলুদ হয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পলিথিন দিয়ে ঢেকেও কাজ হচ্ছে না। ইরি আবাদ হবে কি না আল্লাহই জানেন।”উপজেলার বয়রা গ্রামের কৃষক মজিবর আলী জানান, চলতি মৌসুমে ৬ একর জমিতে ইরি-বোরো চাষের জন্য ৬০ কেজি ধানের বীজতলা তৈরি করেছিলেন। তীব্র শীত ও কুয়াশায় সম্পূর্ণ বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। নতুন করে আবার বীজতলা তৈরি করেছেন, কিন্তু বৈরী আবহাওয়ায় সেটিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ কারণে তিনি ইরি আবাদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়নে ১৯ হাজার ৯৬ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরির কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৪০০ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জসিম উদ্দিন বলেন, “বৈরী আবহাওয়ার কারণে কৃষি বিভাগ থেকে বীজতলা সুরক্ষায় কৃষকদের পলিথিন কাগজ দিয়ে ঢেকে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এরপরও যদি বীজতলার চারা হলুদ রঙ ধারণ করে, তাহলে প্রথমে ইউরিয়া সার এবং পরে জিপসাম ও গোবর প্রয়োগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”
