জয়পুরহাটে গত বছরের লোকসান তুলতে আলু চাষে ব্যস্ত পাঁচবিবির কৃষকরা
জয়পুরহাট জেলা দেশের আলু উৎপাদনের দ্বিতীয় সর্বচ্চো জেলাহিসাবে পরিচিত। সীমান্তবর্তী এ জেলার পাঁচবিবি উপজেলা ওআলু উৎপাদনে এগিয়ে। গত বছর এ উপজেলায় প্রায় সাড়ে ৮হাজার হেক্টর জমিতে আলুর চাষাবাদ হয়। শুরুতে আলু দাম কাঙ্খিত থাকায় কৃষকরা ছিলো অনেকটা ফুরফুরে মেজাজে। তবে কিছুদিনের মধ্যেই আলুর দামে দরপতন হলে কৃষকের মাথায় হাত পড়ে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে আলু চাষীরা।গত বছরের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চলতি মৌসুমে আমন ধান কাটা-মাড়াই শেষ করেই আলু চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। আলুচাষের জন্য জমি উপযোগী করতে শ্রমিকের সঙ্গে কৃষান-কৃষাণী সহ পরিবারের ছোট বড় সবাই কোমড় বেঁধে কাজ করছেন মাঠে ।
কৃষকদের অভিযোগ আলু চাষে বীজ, সার ও কীটনাশকের কিছুটা দাম বেশি। আবার পর্যাপ্ত সার পাচ্ছে না।উপজেলার অংড় প্রামের আলু চাষী আমিনুল ইসলাম গত বছর ৮ একর জমিতে আলু চাষাবাদ করেছিলেন। কিন্তুু মৌসুম শেষে প্রায় লক্ষাধিক টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। তিনি জানান, গতবছরের ক্ষতি পূরুণে এবার নিজের এবং অন্যের জমি লিজ নিয়ে এক দাগে ৬০৩৯ বিঘা জমিতে আলু চাষ করছেন। এরইমধ্যে আলু রোপণ প্রায় শেষের দিকে। প্রতি বিঘা জমিতে । ১৫-২০ জন শ্রমিক একসাথেজোট বেঁধে আলু রোপণের কাজ করছে। কৃষি অফিসের পরামর্শঅনুযায়ী ডায়মন্ড, কার্ডিনাল,গ্রানুলা,সানসাইন,ভ্যালেনসিয়া, বারি আলু ৮৬, মিউজিকা, আটলান্টিক, লাল -সাদাপাকড়ী জাতের আলু রাপণ করছেন।উপজেলার ধরঞ্জী গ্রামের আলু চাষী আজিজুল ইসলাম বলেন, এবছর ৭৩৯ বিঘা জমিতে বিভিন্ন জাতের আলু লাগিয়েছি।
প্রতি বিঘাআলু রোপণের ক্ষেত্রে জমি চাষ সার, কীটনাশক, বীজ ও শ্রমিক খরচসব মিলিয়ে প্রায় ৩০-৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। দাম ভাল থাকলে লাভবান হওয়া যাবে।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ জসিম উদ্দিন জানান,চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় আলু রোপনের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮১০০ হেক্টর জমিতে। উপজেলার চাষীরা তাদের জমিতে ডায়মন্ড, কার্ডিনাল, গ্রানুলা, এস্টারিক্স, সানসাইন,ভ্যালেনসিয়া, এ্যালুইট, কুইন এ্যানি, বারি আলু-৮৬,মিউজিকা, কারেজ, ফ্রেশ, আটলান্টিক, সূর্যমুখী, লাল পাকড়ী,সাদা পাকড়ী ও শীল বিলাতী ইত্যাদি জাতের আলু রোপণ করেছেন।
